জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে জার্মানির বিভিন্ন শহরে তীব্র সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) গভীর রাতে দেশটির অন্যতম প্রধান শহর ফ্রাঙ্কফুর্টের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভকারীরা ব্যাপক লুটপাট, দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়ে।
জার্মানির অর্থনৈতিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্ট ছাড়াও বার্লিন, কোলন এবং হামবুর্গেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীরা আতশবাজি, পাথর এবং বোতল ছুড়ে জরুরি সেবা কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানালে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে।
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডট রবিবার (১ নভেম্বর) জানান, পুলিশ রাতভর তৎপরতা চালিয়ে প্যারিসের মতো বড় সহিংসতা রোধ করেছে। তিনি দাঙ্গাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
এর আগে ‘জেন জি রেগেল্ট’ (জেনারেশন জেড দায়িত্ব নিচ্ছে) নামক প্রচারণামূলক দলের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে অর্থায়নের অভাব, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করে।
আন্দোলনের মুখপাত্র লিনা ফ্রেডরিখ বলেন, ‘‘এই বিক্ষোভ ছিল যুদ্ধ ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের পক্ষে।’’ তবে পরবর্তী সময়ে ফ্রান্সের চলমান গণবিক্ষোভের আদলে জার্মানির এই অশান্ত পরিস্থিতি চরম সহিংসতায় রূপ নেয়।
দাঙ্গা দমনে ফ্রাঙ্কফুর্টের কেন্দ্রস্থলে বিশেষ পুলিশ ইউনিট মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি দোকানের জানালার কাচ ভেঙে ককটেল নিক্ষেপ করে এবং স্নিকার্সসহ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করে এমনকি একটি অস্ত্রের দোকান থেকে দুটি সমরাস্ত্রও উদ্ধার করে পুলিশ। এসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক বলেন, প্রায় ১০০ জন বামপন্থী চরমপন্থী এই বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করে পরিস্থিতি লজ্জাজনক করে তুলেছে।
একইভাবে কোলন ও বার্লিনেও ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত এবং ৫৬ জন সাময়িকভাবে আটক হন। হামবুর্গে ব্যারিকেডে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ১২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে ফ্রান্সেও ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।