• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
ব্যালন ডি’অরের জানা-অজানা যত ইতিহাস ১০ দিন পর গলার লকেটে মিলল নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তার পরিচয় দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শনিবার এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ: শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের প্রস্তাব ইউনেস্কোর ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মানে জিহবাটা বের করে হাঁফাচ্ছে: মো. তারেক জাপানের বিনিয়োগে দেশে নতুন ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা: প্রধানমন্ত্রী আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং কারখানা পরিদর্শন করলেন জার্মান ভাইস মিনিস্টার ৬০,০০০ কর্মীকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছে মাইক্রোসফট

জাপানের বিনিয়োগে দেশে নতুন ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা: প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

জাপানের বেসরকারি খাত থেকে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে জাপান সফর ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘জাপানে আমার ঐতিহাসিক সফর বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাপান সফর ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিলেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। তার মতে, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের অংশীদারত্বকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুযোগে রূপান্তর করা।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে উৎসাহব্যঞ্জক আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি, এসব বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করবে, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে এবং তরুণ কর্মশক্তির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন ও উন্নত প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে সহযোগিতা এবং দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরের মধ্যে উচ্চগতির রেল যোগাযোগ স্থাপনসহ আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নেও জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হিসেবে বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিগ-বি) উদ্যোগকে যৌথ সমৃদ্ধির নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নেয়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নবায়িত সহযোগিতার আওতায় জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগসেতু হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নে মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তারেক রহমান।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদাপূর্ণভাবে ও টেকসই উপায়ে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার প্রতিটি পর্যায়ে দেশটি বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থেকেছে।

গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ নতুনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থবহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পোস্টের শেষাংশে জাপানের প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও জনগণের উষ্ণ আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com