পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন শর্ত আরোপের কারণে ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও আনুষঙ্গিক অনুমোদন পেতে দেরি হওয়ায় আগামী ৪ বা ৫ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।
জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান।
কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া থেকে সেন্ট মার্টিন নৌপথে তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। জাহাজ তিনটি হলো এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া ও এমভি টেকনাফ। এগুলোর যাত্রী ধারণক্ষমতা যথাক্রমে ৭৩২, ৮৫০ ও ৭১৬ জন। তিনটি জাহাজে মোট ২ হাজার ২৯৮ জন যাত্রী চলাচল করতে পারবেন।
২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জাহাজ তিনটির চলাচলে নীতিগত সম্মতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। ২৯ অক্টোবর মন্ত্রণালয় সম্মতি জানায়। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের পাশাপাশি সময়সূচি ও রুট পারমিটের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে।
বাহাদুর জানান, তিনটি জাহাজ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছে। আরও সাতটি জাহাজের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া জাহাজগুলো চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে।
সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, সেন্ট মার্টিনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক যাওয়ার সুযোগ পাবেন। যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা এ সীমা ছাড়ালে রোটেশন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন নির্দেশিকা-২০২৩ অনুসরণও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্ট এবং কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে দি সি প্রিন্সেস হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানান, ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের নিবন্ধন করতে বোর্ড পরিচালিত ওয়েবসাইট খুলে দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে অনলাইনে টিকিট বিক্রিও শুরু হবে।