• বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
উইটকফ ও নর্ডিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে নরওয়েতে জেলেনস্কি দ্বিতীয় মেয়ের নাম প্রকাশ করলেন দীপিকা-রণবীর সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠ না, আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী পূজায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন : অর্থমন্ত্রী প্রতিবেশী দেশের ভরসায় ক্ষমতায় থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানালেন মন্ত্রী-নেতারা পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক, কী আলোচনা হলো? রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাৎ জিম্বাবুয়েকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশের ‘উপকার’ করল আফগানিস্তান ৯ মাসে ‘মব’ সহিংসতায় নিহত ১৮৭

চট্টগ্রাম বন্দরে জমি বরাদ্দে ভয়াবহ অনিয়ম

Reporter Name / ৭৫ Time View
Update : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চপা) তহবিল থেকে ১,৩১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ২,০৩৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন এবং বিদেশে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে সীতাকুণ্ড, হালিশহরসহ চট্টগ্রাম বন্দরের অধীনস্থ বিভিন্ন মূল্যবান জমি ও অবকাঠামো আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ, পারটেক্স গ্রুপ, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ ও স্মারক পাঠিয়েছে দুদক। অনুসন্ধান সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন দুদকের তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের দল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন একজন উপ-পরিচালক এবং সঙ্গে রয়েছেন সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাস ও সহকারী পরিচালক মোঃ ফেরদৌস রহমান। আগামী ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল নথি ও তথ্য দুদকের টিমের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের নোটিশে যা রয়েছে

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মালামাল পাচার এবং প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত নানা অনিয়মের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের শত শত কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে কমিশন বন্দরের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতের নথি ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন তলব করেছে।

নথি তলবের মূল বিষয়গুলো হলো

জমি ও অবকাঠামো ইজারা পর্যালোচনা: সীতাকুণ্ডে তেল ও গ্যাস প্রকল্পের জমি বরাদ্দ, পতেঙ্গায় পুরাতন এয়ারপোর্ট এলাকায় ইনকনট্রেড লিমিটেডকে প্রদত্ত জমি, আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপকে হালিশহর, সীতাকুণ্ড, কাট্টলী এলাকায় প্রদত্ত ইজারা, কর্ণফুলী নদীর তীরে পারটেক্স গ্রুপকে দেওয়া জমি এবং গোসাইলডাঙ্গায় বশির আহমদ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে দেওয়া ইজারার বিষয়টি উল্লেখ আছে।

শত শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে—বন্দর প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের একাংশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূতভাবে জমি ইজারা দেওয়া হয়েছিল। আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া কিছু ইজারায় দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ছিল না। এর ফলে হাজার কোটি টাকারও বেশি সরকারি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। দুদক ইতোমধ্যে অনিয়ম হওয়া জমি ও প্রকল্পের ইজারা বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে।

১১ অক্টোবরের মধ্যে নথিপত্র চাওয়া হয়েছে

দুদকের অনুসন্ধান দল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে ইজারা সংক্রান্ত সকল দরপত্র, উন্মুক্তকরণ ও মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ, কার্যাদেশ, ইজারা ফি আদায়ের হিসাব এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও অডিট আপত্তি সম্পর্কিত যাবতীয় মূল কপি ও সনদকৃত ফটোকপি জমা দিতে সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, নথিপত্র পর্যালোচনার পর অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com